হাওজা নিউজ এজেন্সি: আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুহাম্মদ ঘার্ভী “জাতিবাদ ও দেশপ্রেম: ইসলামী দৃষ্টিকোণ” শীর্ষক আলোচনায় বলেন, ইসলামে সাধারণ অর্থে জাতিবাদ গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলামের কেন্দ্রবিন্দু শুধুমাত্র আল্লাহর উপাসনা, আর কোনো কিছুর নয়।
নবী ও ওলি-আল্লাহর উপাসনা শির্ক
তিনি ব্যাখ্যা করেন, যে কোনো জ্ঞান, শক্তি বা সম্পদ মানুষকে আছে তা আল্লাহ প্রদত্ত। অন্যকে ধন্যবাদ বা প্রশংসা দেওয়া হলেও, তা আল্লাহর দানের প্রতি কৃতজ্ঞতার মাধ্যম। শাফায়াত (মধ্যস্থতা) হলো আল্লাহর রহমতের এক পথ, এবং কখনওই এ অর্থে নয় যে কেউ আল্লাহর পাশে উপাস্য হবে। নবী এবং ওলি-আল্লাহর উপাসনা করা শির্ক এবং কুফরি।
শাফায়াতের ক্ষেত্রে, মধ্যস্থ ব্যক্তি কেবল আল্লাহর রহমতের একটি মাধ্যম। সকল ধরনের কৃতিত্ব, ক্ষমতা বা সহায়তা আল্লাহ প্রদত্ত, আর মানুষ কেবল মাধ্যম।
মানুষের মর্যাদার মানদণ্ড
আয়াতুল্লাহ ঘার্ভী বলেন, ইসলামে কোনো জাতি, বর্ণ বা বংশের ভিত্তিতে কারও উপরের বা নীচের মর্যাদা নেই। মানুষের সত্যিকারের মর্যাদা নির্ধারিত হয় ঈমান, তাকওয়া এবং জ্ঞান দ্বারা। এই প্রাধান্য কখনো অহংকার বা প্রহরায় রূপ নেয় না।
ইসলাম মানসিক ও নৈতিক প্রাধান্য গ্রহণ করে, কিন্তু কোনো ধরণের জাতিগত অহংকার বা বৈষম্য মেনে নেয় না।
দেশপ্রেম: স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক অনুভূতি
দেশপ্রেম স্বাভাবিক এবং মানবপ্রকৃতির একটি অংশ। যেমন একজন মানুষ তার বাড়ি বা সন্তানকে ভালোবাসে, তেমনি তার দেশকেও ভালোবাসে। এ ধরনের অনুভূতি সভ্যতা ও শহর গঠনের উৎস।
আমিরুল মুমিনিন আলী (আ.) বলেছেন, “মানুষের মহানতার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত তার অতীতকে স্মরণ করা, দেশপ্রেম এবং প্রাচীন বন্ধুদের রক্ষা করা।”
অতিরিক্ত জাতিয়বাদ ও দেশপ্রেম নিন্দিত
আয়াতুল্লাহ ঘার্ভী বলেন, অতিরিক্ত দেশপ্রেম বা জাতিগত অহংকার ইসলাম দ্বারা নিন্দিত। ইসলামে মর্যাদা সবসময় আল্লাহ প্রদত্ত। উদাহরণস্বরূপ, সালমান পারস্য বা অন্য কোনো সম্প্রদায়ের মানুষ—যদি উভয়েই মুমিন হয়—তাদের মধ্যে মানবিক মর্যাদায় কোনো পার্থক্য নেই।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইতিহাসে কিছু সম্প্রদায় বা সংস্কৃতির মানুষ ধর্মীয় সত্য বোঝার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সক্ষম হতে পারে। তবে এটি জাতিগত প্রাধান্য নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানগত ক্ষমতার প্রকাশ। নবী (সা.) সকলকে সমানভাবে মর্যাদা দিয়েছেন; কোনো জাতি বা বর্ণের ভিত্তিতে পার্থক্য করেননি।
আয়াতুল্লাহ ঘার্ভী আরও বলেন, অতিরিক্ত কুরাইশী অহংকার বা বংশীয় সীমাবদ্ধতা ইতিহাসের কিছু বাকি প্রভাব মাত্র, যা কখনও ইসলামের প্রমাণিত দৃষ্টিভঙ্গি ছিল না। নবীর সুনির্দিষ্ট জীবন এবং আচরণ এটি প্রমাণ করে।
নবী এবং তাদের সন্তানদের মর্যাদা
নবীর (সা.) সন্তান তথা বংশদরদের সম্মান করা হলো নবীর সম্মানের প্রতিফলন, যা কোনো আইনি বা নৈতিক বিশেষাধিকার দেয় না। যদি কোনো নিয়ম ভঙ্গ হয়, তবে বিচার অন্যান্যদের মতোই প্রযোজ্য। ইতিহাসে এমন উদাহরণ দেখা যায় যেখানে নবীর সন্তানদেরও তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য সমালোচনা করা হয়েছে।
নবী ও দেশপ্রেম
দোয়য়ে সহিফায়ে সাজ্জাদিয়ায় দেখা যায় নবী (সা.) মক্কার প্রতি গভীর আবেগ ও দেশপ্রেম প্রকাশ করেছেন। মক্কা শহরের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং হৃদয়ের যন্ত্রণার প্রকাশ প্রমাণ করে যে দেশপ্রেম মানুষের প্রাকৃতিক এবং মানবিক অনুভূতি। এটি কখনও অহংকার, জাতিগত প্রাধান্য বা শির্কের সাথে সম্পর্কিত নয়।
আপনার কমেন্ট